স্মার্ট ফোনেই চলবে শামীমের গোয়েন্দা
রোবট!
তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে হরহামেশা
তৈরি হচ্ছে নানা ক্ষমতা সম্পন্ন বিভিন্ন
ধরনের রোবট।অধিকাংশ রোবট কম্পিউটার
অথবা রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
করা হয়।
তবে এবার প্রযুক্তি নির্ভর মানুষদের
চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে স্মার্ট ফোন
নিয়ন্ত্রিত রোবট আবিষ্কার করেছে ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ক্ষুদে
বিজ্ঞানী শামিম হাসান।বর্তমানে
স্মার্টফোন ছাড়া প্রযুক্তি নির্ভর মানুষের
কোনো কিছুই যেন পূর্ণতা পাচ্ছে না। তাই
বলা যায় তার এই আবিষ্কার নতুন এক অধ্যায়ের
সূচনা করলো।গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য
সংগ্রহ করার ক্ষমতা সম্পন্ন এই রোবট ওয়্যারলেস
সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রকের কাছে তথ্য
সরবরাহ করতে পারে বলে জানিয়েছেন
রোবটের জনক শামীম হাসান।রবিবার ঠিক
বেলা সাড়ে ১২টা হবে।
লাল রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসকর্ণারে এসে উপস্থিত
পাতলা শারীরিক গঠনের ক্ষুদে বিজ্ঞানী
শামীম হাসান। সাথে কয়েকজন বন্ধু। মুচকি
মুচকি হাসতে হাসতে পরিচয় দিয়ে শামীম
হাসান তার আবিষ্কৃত রোবটের গুণাবলী ও
কার্যক্ষমতার নানাদিক তুলে ধরে।শামীম
হাসান জানান, যে কোনো দুর্গম স্থান
থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে রোবটটি কাজ করবে।
যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ যাতয়াত
করতে পারবে না এমন জায়গায় অনায়াশে এই
রোবট কাজ করতে পারবে।
আর স্মার্টফোনের মাধ্যমেই রোবটটি
নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।সে আরও জানায়,
রোবটটিতে রয়েছে একটি ক্যামেরা এবং
মাইক্রফোন যার মাধ্যমে রোবটটি শব্দসহ
ভিডিও চিত্র ধারণ করে কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রকের
কাছে পাঠাতে পারে। এছাড়া রোবটের
গতিবিধীসহ যাবতীয় কার্যক্রমএকটি মনিটরে
দেখার সুযোগও রয়েছে।জানা গেছে,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত
পদার্থ, ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০৯-১০
শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামীম হাসান
কুষ্টিয়ার জেলার মীরপুর উপজেলার মহদীপুরের
আমলা গ্রামের হাজী আব্দুল গণি’র কণিষ্ঠ
সন্তান।
তার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব সূত্রে জানা
গেছে, এর আগে শামীম ওয়াটার লেভেল
কন্ট্রোলার, অটোমেটিক সোলার ট্রেকার,
স্মার্টফোন কন্ট্রোল হোম সিকিউরিটি লক,
অটোমেটিক জেনারেটর ভোল্টেজ
কন্ট্রোলার এন্ড স্টাবলাইজার, অটোমেটিক
ফ্যান স্পিড কন্ট্রোলারসহ বেশ কয়েকটি
মেশিন আবিষ্কার করেছে।শামীম হাসান
বলেন-‘ছোট বেলা থেকেই যন্ত্রপাতি ও
ইলেকট্রনিক্স্রের কাজের প্রতি প্রবল টান
ছিল।
বাড়িতে থাকা টিভি, রেডিও, লাইট,
ফ্যানসহ যে কোন ধরনের যন্ত্রপাতি নিয়ে
নিজেই তার উপর বিভিন্ন কাজকরার চেষ্টা
করতাম। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রনিক্স
নিয়ে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে আমার আগ্রহ আরও
বেড়ে যায়।
ছোট বেলা থেকে নিজের মত করে কোনো
কিছু আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখেছি। সেই
স্বপ্নের উপর ভর করেই ভবিষ্যত গড়তে চাই।’

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন